বি সোশ্যাল মিউজিক: বাংলা গান শোনার দেশি অ্যাপ

বাংলাদেশে তৈরি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বি সোশ্যালের গানের অংশের নাম বি সোশ্যাল মিউজিক। গান, অ্যালবাম বা শিল্পীর নাম লিখে খুঁজুন, প্লে করুন, আর ভালো লাগা গানগুলো রেখে দিন প্লেলিস্টে ও নিজের লাইব্রেরিতে। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে গান ডাউনলোড করে ইন্টারনেট ছাড়াও শোনা যায়। বন্ধুদের আড্ডা আর চ্যাটের পাশেই গান শোনার একটা অ্যাপ খুঁজলে, এখান থেকেই শুরু করুন।

আড্ডার জায়গাতেই গান

গান আমরা এমনিতেই ভাগাভাগি করি: চ্যাটে একটা লিংক, স্ট্যাটাসে গানের এক লাইন, ভিডিওর পেছনে কোনো সুর। বি সোশ্যাল মিউজিকে গান শোনা আর বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা একই জায়গায়, এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে দৌড়াতে হয় না।

ওয়েবসাইট besocial.bd আর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, দুই জায়গাতেই এটি বি সোশ্যালের অংশ। স্পটিফাই বা ইউটিউব মিউজিকে যাঁরা গান শোনেন, তাঁদের জন্য এটি একটি দেশি বিকল্প, যা আপনার প্রোফাইল, মেসেজ আর পোস্টের সঙ্গে জোড়া।

মাথায় ঘুরতে থাকা গানটা খুঁজে নিন

খুলনায় এক বিয়েবাড়িতে একটা গান শুনেছেন, তারপর থেকে গুনগুন থামছে না। গানের নাম, অ্যালবাম বা শিল্পীর নাম দিয়ে সার্চ করুন। পছন্দ হলে লাইক দিন, পরে সহজে ফিরে আসতে পারবেন।

  • গান, অ্যালবাম আর শিল্পী খোঁজা
  • প্রিয় গানে লাইক
  • নিজের প্লেলিস্ট: অফিস যাওয়ার পথে, পরীক্ষার আগের রাতে, গায়ে হলুদের জন্য
  • নিজের লাইব্রেরি, যেখানে আপনার সেভ করা গান থাকে
  • রিসেন্টলি প্লেড, কালকে শোনা যে গানের নাম ভুলে গেছেন সেটার জন্য

অ্যান্ড্রয়েডে ডাউনলোড করে অফলাইনে শুনুন

মোবাইল ডেটার দাম আছে, আর বরিশালের লঞ্চে বা সিলেটের ট্রেনে নেটওয়ার্ক এই আছে এই নেই। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে গান ডাউনলোড করে অফলাইনে শোনা যায়। বাসার ওয়াই-ফাইতে প্লেলিস্ট নামিয়ে নিন, পুরো পথ শুনুন এক মেগাবাইট ডেটাও খরচ না করে।

অফলাইন ডাউনলোড শুধু অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে। ওয়েবসাইটে আর আইফোনের ব্রাউজারে গান অনলাইনে বাজে।

যে কাউকে গান পাঠান

প্রতিটি গানের একটি পাবলিক পেজ আছে, লিংক পেলে যে কেউ খুলতে পারেন। দুবাইয়ে থাকা চাচাতো ভাই, রংপুরের পুরোনো স্কুলবন্ধু বা গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, সবাইকে পাঠাতে পারেন। বি সোশ্যালের মেসেঞ্জারে চ্যাটেও সরাসরি গান শেয়ার করা যায়।

বি সোশ্যালের অন্য জায়গাতেও গান আছে। পেজ আর ভেরিফায়েড প্রোফাইল একটি প্রোফাইল গান বেছে নিতে পারে, কেউ প্রোফাইল খুললেই সেটি বাজে। আর রিল বা ভিডিও এডিট করার সময় একই লাইব্রেরি থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দেওয়া যায়।

শিল্পী, ব্যান্ড আর লেবেলের জন্য: নিজের গান আপলোড

বি সোশ্যাল মিউজিকে গান আপলোড করতে পারে শুধু ভেরিফায়েড প্রোফাইল আর পেজ। আপনি যদি গায়ক হন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড হন, লোকগানের শিল্পী বা ছোট কোনো লেবেল হন, তাহলে গানের জন্য একটি পেজ খুলুন, মানানসই ক্যাটাগরি বাছুন, আর ভেরিফিকেশনের আবেদন করুন। ভেরিফায়েড হলে গান আপলোড করতে পারবেন, শ্রোতারা আপনার নাম বা অ্যালবাম দিয়ে খুঁজে পাবেন।

পেজেই খবর দিতে পারেন, শোয়ের ছবি পোস্ট করতে পারেন, ফলোয়ার জমাতে পারেন। গান আর শ্রোতা থাকে এক জায়গায়।

যাঁরা গান বানান, তাঁদের প্রতি সম্মান

গান তার স্রষ্টার। বি সোশ্যাল মিউজিকে আছে কনটেন্ট আইডি, যার মাধ্যমে স্বত্বাধিকারী অন্য কারও আপলোড করা নিজের গান দাবি করতে পারেন। আপনার আপলোড করা গান দাবির কারণে সরানো হলে এবং আপনি মনে করেন ভুল হয়েছে, আপিল করতে পারবেন।

গান শোনা শুরু করুন

বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর (এসএমএসে কোড আসবে) বা ইমেইল দিয়ে ফ্রিতে বি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলুন। বি সোশ্যাল ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। অ্যান্ড্রয়েডে besocial.bd/download/besocial.apk থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন, আইফোন বা কম্পিউটারে ব্রাউজারে besocial.bd খুলুন। পুরো অ্যাপ বাংলায় চালানো যায়।

বি সোশ্যাল একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম, স্পটিফাই বা ইউটিউব মিউজিকের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

সাধারণ প্রশ্ন

অনলাইনে বাংলা গান কোথায় শুনব?

বাংলাদেশি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বি সোশ্যালের অংশ বি সোশ্যাল মিউজিকে besocial.bd আর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে গান খুঁজে শুনতে ও সেভ করতে পারেন।

গান ডাউনলোড করে কি অফলাইনে শোনা যায়?

হ্যাঁ, বি সোশ্যালের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে। ওয়াই-ফাইতে থাকার সময় ডাউনলোড করে রাখুন, পরে ইন্টারনেট ছাড়াই শুনুন।

নিজের গান কীভাবে আপলোড করব?

শুধু ভেরিফায়েড প্রোফাইল আর পেজ গান আপলোড করতে পারে। গানের জন্য পেজ খুলে ভেরিফিকেশনের আবেদন করুন, ভেরিফায়েড হলে আপলোড করতে পারবেন।

যিনি বি সোশ্যালে নেই, তাঁকে কি গান পাঠানো যায়?

হ্যাঁ। প্রতিটি গানের পাবলিক পেজ আছে, লিংক পেলে যে কেউ খুলতে পারেন।

কেউ অনুমতি ছাড়া আমার গান আপলোড করলে কী করব?

স্বত্বাধিকারী কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে নিজের গান দাবি করতে পারেন। আর আপনার আপলোড ভুলভাবে সরানো হলে আপিল করা যায়।